কবিতা

“অপরিপূর্ণতা”

নিঃশব্দে হাঁটাচলা করি, এ যেনো আমার
চিরকালের অভ্যেস। সেই নিঃশব্দতার
বাঁক গুলিয়ে জীবনের নিশ্ছিদ্র অধ্যায়কে
বিদীর্ণ করে দিলে তুমি!

এখন আমার নিরবতা ভেঙ্গে গেছে।
উদিত হয়েছে মনে এক নতুন জল্পনা।
কি করি এখন? উপায়ান্তর খুঁজে না পেয়ে
প্রশ্ন করি তোমায়, “কেনো এলে তুমি?”

আমাকে বাকরুদ্ধ করে দেয় তোমার
কথার ঝলকানি। মনে আনে এক
নতুন রুপকথার বাণী। বলে দিলে
তুমি তখন,”আমি ছাড়া তুমি যে অপরিপূর্ণ! “

দাওয়ায় বসে ভাবি, এ কেমন উচ্ছলতা
এসেছে মনে! আগে তো ছিল না এমন!
দোলের প্রয়াসে রাঙ্গা মুখখানি হাসির
ঝলক ছুৃঁড়ে দেয় আমার মনে!

আজ আর পা চলে না, মনে হয়
খুব করে হলেও তোমায় প্রয়োজন।
তারুণ্যের চাঞ্চল্যতাকে গ্রাস করে,
চোখের মণির কালো ফোঁটাকে বিস্মিত
করে দেওয়ার জন্য হলেও প্রয়োজন তোমাকে!

আমি খুব রোমান্টিক নই। বৃষ্টির দিনে
কাঁথা মুড়ি দিয়ে, শীমের বিচি খেতে খেতে
তুমি বলবে,”একটা গল্প বলতো…..”
আমি তখন শুরু করব, “তোমাকে
পাওয়ার গল্প……! “

প্রচন্ড রোদ পড়ে গ্রীষ্মকালে! সেই রোদে
মাখামাখি হয়ে ব্যস্ত থাকবে তুমি,
আমন ধান ঘরে তোলার জন্য। তাপের উষ্ণতায়,
তোমার মায়াবী মুখখানি ঘেমে উঠবে।
আর আমি, “গামছা দিয়ে মুছে দিতে দিতে
বলব, ” কষ্ট হচ্ছে বুঝি?”

এখন আর আমি নিরব থাকি না। এখন বুঝি,
যখন নিঃশব্দে কাটাতাম সময়, সেই নিঃশব্দতার
কারণ ছিলে তুমি।
আর আজ, আমি ভীষণ ব্যস্ত!
সেই ব্যস্ততার কেন্দ্র ও তুমি!

এখন আবার, দাওয়ায় বসে ভাবি,
নিজের দিকে নিজে চেয়ে দেখি।
বার্ধক্য চলে এসেছে আমার শরীরে!
কিন্তু, অন্তর যেনো এখনো পরিপূর্ণতা পায়নি!
কিসের যেনো অভাব রয়ে গেছে এখনো!

অন্তর ডুকরে কেঁদে উঠে, এ যেনো মায়ার অভাব,
ভালোবাসার অভাব। তবে কি এখনো,
আমাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পায়নি?
মনে বেজে ওঠে তোমার সেই পুরনো কথা,
“আমি ছাড়া তুমি যে অপরিপূর্ণ!”

খোলা চিঠি/নাজিউর রহমান রাকিব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *