কবিতা

নাজিউর রহমানের কবিতা “মা”

রুহ জগত থেকে যখন, এসেছিলাম ভবে
মায়ের পেটেই মোরা, নিরাপদ ছিলাম সবে।
ছিলো না কেনো বেদনা, ছিলাম চিন্তামুক্ত,
এলাম মোরা রঙ্গমঞ্চে জড়িয়ে মায়ের রক্ত!

এসে গেলাম দুনিয়ায়, ছিঁড়ে মায়ের নাড়ি
এ যে মা জাত, এ যে হলো নারী।
ফুটফুটে ছিলাম যখন, বুঝতাম না কিছু,
খাওয়া-দাওয়া,শোয়া-নাওয়া মা ই ছিলো সবকিছু।

একটু যখন শিখলাম বুলি, একটু যখন হাঁটি
“মা,মা” ডাক শুনে মা হাসতেন মিটিমিটি।
কান্না যখন করতাম আবার, দৌড়ে আসতেন মা,
মা’কে ছাড়া তখন আমরা কিছু বুঝতাম না!

আরেকটু বড় হলাম যখন,ডেকে বলতেন মা
“শুন খোকা, কারো সাথে ঝগড়া করবি না!”
মাথা নেড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম যেই,
ভুলে যেতাম মায়ের কথা, যেই সেই।

আবার ডেকে বলতেন মা,”পড়তে বস বাবা”
তখন আমরা সেজে থাকতাম, বড় একটা হাবা।
বোবা হয়ে বসে থাকতাম, দেখতাম মা’কে চেয়ে,
পরক্ষণেই আসতো মা, চামচ হাতে ধেয়ে!

রঙ্গিন জীবন শেষ করে, ঢুকলাম যখন বাস্তবে
মা তখন আর মারতো না, বুঝিয়ে দিতো নিরবে।
কিভাবে কি করতে হবে, শিখিয়ে দিতেন মা
এভাবেই আমরা বড় হলাম, এক এক করে পা।

এখন আমরা মস্ত বড়, বুঝি সবকিছু
তবু যেনো মায়ের কাছে, ছোট এক শিশু।
এই যেনো সেই সেদিন আমরা, হাঁটতাম ঠেকে ঠেকে
হাসতেন মা মুখ চেপে আমাদের দেখে দেখে!

তাই বলি ভাই, মা হলো এক সাওয়াবের আধার
যতোই করবে মায়ের দেখভাল,হবে সেটা পাহাড়!
যদি কখনো দাও দুঃখ, মায়ের মনের মাঝে
পুড়বে তুমি জাহান্নামে, বিভৎস সাজে।

করো তুমি মায়ের পূজা পবিত্র মনে
তবেই দেখবে সব কাজে,আল্লাহ আছে সনে।
রাসূল তাইতো বলে গেছেন,”ভালোবাসো মা’কে,
বাসলে ভালো মা’কে,আল্লাহ জান্নাত দিবে তাকে।

লেখক: নাজিউর রহমান রাকিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *